[মাননীয় বিরোধী দলীয় নেত্রীর প্রতি সম্পুর্ন শ্রদ্ধা রেখে লিখছি]
আমি যদি মাননীয় বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা হতাম, তাহলে আমি কি কি করতাম? এই চিন্তাটা গতকাল হঠাৎ করেই মাথায় এসেছে। তাই এই লেখা।
আমি যদি শেখ হাসিনা হতাম, তাহলে প্রথম যে কাজটা করতাম, তা হলো কথাবার্তায় আরেকটু সংযত হওয়া। আমি দেশের প্রধান বিরোধী দলের নেত্রী, প্রাক্তন প্রধান মন্ত্রী। আমি দেশের সবচাইতে পুরোন রাজনৈতিক দলের প্রধান। আমার কথা বার্তা আরো ধীরস্থির হওয়া দরকার। আমার কথা বার্তায় আরো সচেতন এবং শ্রদ্ধাশীল হওয়া দরকার।আমি কেন যে কোন জায়গায় প্রায় যা ইচ্ছা তাই বলে বেড়াবো? এর ফলে আমি কী পেয়েছি, বা কী পাচ্ছি তা কী আমি একটু চিন্তা করবো না? সাধারন মানুষের কাছে কি আমার গ্রহনযোগ্যতা এই অসংযত কথা বার্তার ফলে বাড়ছে?
মেজর জিয়া’র কবরে তিনি আছেন কী না, নিজামি-খালেদা সরকার ভোট চুরি করছেন কী না, বা কাঁরা চোর হয়ে চোরের সাথে জোট বাঁধছেন, এই ধরনের কথা কী আমার মুখে মানায়? আমার শিক্ষাগত যোগ্যতা কী আমাকে এই শিখিয়েছে? এসব কথা বলার জন্য তো প্রচুর লোক আমার দলের মধ্যেই আছে। তাঁরা বললেই তো হয়। এর ফলে, যখন আমি দুটা কথা বলবো, তখন মানুষ আমার কথা গুরুত্বের সাথে শুনবে। একজন নেতার কাছে এর চাইতে বড় ক্ষমতা আর কী হতে পারে?
কথা বার্তায় সংযত হবার কয়েকটি দিক আছে। এক হলো কী বলছি বুঝে শুনে বলা। একটি মুসলিম দেশের মানুষ হয়ে আরেকজন মৃত মানুষের কবর নিয়ে কথা বলা কী আমার শোভা পায়? রাজনৈতিক মতামতের যতই পার্থক্য থাকুক না কেন সেই মানুষটির সঙ্গে, একজন মুসলমান আরেকজন মুসলমানের কবর নিয়ে খারাপ মন্তব্য করতে পারে না। বাংলাদেশের মানুষ খুবই ধর্মভী্রু, তা সে যেই ধর্মেরই হোক না কেন, এবং সবাই এ ধরনের কথা খারাপ ভাবে দেখেন। এটা কি আমি জানি না? প্রতিটি মানুষ বা তাদের চিন্তাধারাই কি আমার ভোট কে প্রভাবিত করে না?
কথা বার্তায় সংযত হবার আরেকটি দিক হলো একই কথা বার বার না বলা। আমি কেন প্রতিটি সমাবেশেই একই কথা বলবো? এবং সেই কথাগুলো সবসময়ই কেন হবে অতীত মুখি এবং ব্যক্তিগত আক্রমনমূলক? আমি শেখ হাসিনা। আমার বাবাকে এই জাতির পিতা বলা হয়। আমার বাবা এই দেশের রূপকার। তাঁর মেয়ে হয়ে কেন আমি ভবিষ্যতের স্বপ্ন তুলে ধরি না এই অভাগা দেশের মানুষের কাছে? কোটি কোটি মানুষ তাকিয়ে আছে আমার দিকে, নির্দেশনার জন্য। তাঁদের কে কি করে আমি আরো ভাল ভাবে পথ দেখাতে পারবো, সেটাই হবে এখন থেকে আমার বক্তব্যের মূল বিষয়।
হাসিনার প্রতিটি বিষয় নিয়ে কথা বলার মানুষ আছে। যোগ্য মানুষই আছেন। আমাদের অনুরোধ উনি তাঁদের ওপর বেশির ভাগ কথা বলার দায়িত্ব ছেড়ে দিন।, উনার নিজের জন্য মঙ্গল, দলের জন্যও মঙ্গল।
ছোট মুখে বড় কথা বলছি। কিন্তু আমাদের এই তরুন প্রজন্মকে পথ দেখানোর জন্য শেখ হাসিনা ব্যাতীত কোন বিকল্প নেই বলে আমাদের বিশ্বাস। আমরা তাঁর কাছে পথ নির্দেশনা চাই। গঠনমূলক পদক্ষেপ চাই। আমরা যারা তাঁকে সমর্থন করে চলার চেষ্টা করি, তাঁর কিছু কিছু কথা এবং কাজ আমাদের বড় অপ্রস্তুত করে ফেলে। আমরা তার জবাবে কী বলবো ভেবে পাই না। দেশের এই ক্রান্তিকালে, আমাদের সবার একসাথে চলা বড় প্রয়োজন। য়তো হাসিনার কাছের কেউ এই লেখা পড়বেন এবং উনি এ ব্যাপারগুলো একটু খেয়াল করবেন, এই প্রত্যাশায় এই লেখা।
সুচিন্তা।
১৫ই আগস্ট ২০০৬।